A network of local CSOs and NGOs in Cox’s Bazar to promote a human and gender responsive society through positive engagement with government.

সিসিএনএফ (CCNF) ও ইকুইটি বিডি (EquityBD)-এর যৌথ বিশ্লেষণ: যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (JRP) ২০২৫-২০২৬ জেআরপিতে স্থানীয় সংগঠনগুলোর কাছে ১% এরও কম বাজেট: প্রয়োজন একটি সুনিদিষ্ট স্থানীয়করণ ও প্রত্যাবাসন রোডম্যাপ

Share the Post:

পটভূমিঃ বিগত বছরগুলোতে মানবিক সংস্থা, আন্তর্জাতিক এনজিও, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের অংশীজনরা যৌথভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং কক্সবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা মোকাবিলায় যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (Joint Response Plan – JRP) প্রণয়ন করে আসছে। জেআরপি হচ্ছে রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তার প্রদানের পরিকল্পনা ও তহবিল সংগ্রহের কাঠামো, যেখানে বিভিন্ন সংস্থা খাতভিত্তিক ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রয়োজন নির্ধারণ করা হয়। এই কাঠামোর আওতায় মানবিক সংস্থাসমূহ কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করে থাকে। CCNF ও ইকুইটিবিডি বর্তমান যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা, উন্নয়নের ক্ষেত্র এবং প্রত্যাবাসন কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ উপস্থাপন করেছে।

জেআরপির বর্তমান ব্যবস্থা ও চ্যালেঞ্জসমূহঃ ২০২৫–২০২৬ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (JRP) কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তার রূপরেখা তুলে ধরেছে। ২০২৫ সালের জন্য এই পরিকল্পনায় প্রায় লাখ মানুষের জন্য ৯৩৪.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল চাওয়া হয়েছিল (২০২৬ সালের জেআরপি এখনও প্রকাশিত হয়নি)। এই পরিকল্পনা ও সামগ্রিক রোহিঙ্গা প্রতিক্রিয়া নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ নিচে তুলে ধরা হলো।

১. জাতিসংঘ-নির্ভর যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনাঃ ২০২৫ সালের জেআরপি বাজেট পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে দেখায় যে পুরো কার্যক্রম এখনও ব্যাপকভাবে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন। মোট ৯৩৪.৫ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে প্রায় ৮১০.৫৮ মিলিয়ন ডলার (৮৬.৮%) জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিপরীতে আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর অংশ মাত্র ৮.৯৭%, জাতীয় এনজিওগুলোর ৪.১৯% এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনকভাবে স্থানীয় এনজিওগুলোর জন্য বরাদ্দ মাত্র ০.০৬%। এটি পরিকল্পনা পর্যায় থেকেই একটি বড় বৈষম্য নির্দেশ করে এবং স্থানীয় সংগঠনগুলো যে সরাসরি অর্থায়ণের সুযোগ পরিকল্পনা থেকেই প্রায় সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত।

. ১০টি আবেদনকারী সংস্থার কাছে ৯১% বাজেটঃ ২০২৫ সালের জেআরপিতে অর্থায়নের কাঠামো অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। ৫৭টি আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র ১০টি সংস্থার হাতে মোট বাজেটের ৯১% রয়েছে। অন্যদিকে বাকি ৪৭টি অংশীদার মাত্র ৯% বাজেট ভাগ করে নিয়েছে। সর্বোচ্চ অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে জাতিসংঘ সংস্থাগুলো—বিশেষ করে WFP (৩৪%), UNHCR (২১%), IOM (১৪%), UNICEF (১১%), UNFPA (৪%) এবং BRAC (৩%)। এটি ছোট জাতীয় ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর জন্য আর্থিক অংশগ্রহণ ও প্রভাবের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে। এমনকি ব্র্যাকের অংশও যেকোন আন্তর্জাতিক সংস্থার তুলনায় বেশি।

. জেআরপি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনা নয়ঃ বর্তমান ও পূর্ববর্তী জেআরপি কোনো পূর্ণাঙ্গ বা সমন্বিত পরিকল্পনা নয়। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা সংকটে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে—যার মধ্যে রয়েছে জনবল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং এমনকি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সরকার এই সংকটে সহায়তা করছে। কিন্তু এসব অবদান বর্তমান জেআরপি কাঠামোয় প্রতিফলিত হয়নি। বরং এটি মূলত জাতিসংঘ-নির্ভর তহবিল সংগ্রহের একটি কাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয় সরকার, জেলা প্রশাসন এবং আরআরআরসি (RRRC)-এর অংশগ্রহণও জেআরপি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সীমিত। পূর্বে ISCG এবং বর্তমানে RCT মূলত সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে শুধু চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে জেআরপি প্রণয়ন করে থাকে।

. ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত না করাঃ ২০২৬ সালের জেআরপি পরিকল্পনায় ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। উখিয়া ও টেকনাফে বসবাসরত ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, কারণ ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। জেআরপি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

. ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের স্বচ্ছতা নেইঃ পূর্ববর্তী বছরগুলোতে বাজেট কার্যক্রম ব্যয়, পরিচালন ব্যয় এবং জনবল ব্যয় অনুযায়ী পৃথকভাবে উপস্থাপন করা হতো। কিন্তু বর্তমান জেআরপিতে ব্যবস্থাপনা ব্যয় এবং কার্যক্রম ব্যয়ের স্পষ্ট বিভাজন নেই। জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই বিভাজন জরুরি। অর্থায়ন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য আরও বেশি সহায়তা বরাদ্দ করা প্রয়োজন, যা বর্তমান জেআরপিতে প্রতিফলিত হয়নি।

. স্থানীয় জাতীয় সংগঠনের জন্য সরাসরি অর্থায়ণের প্রতিশ্রুতি নেইঃ জেআরপিতে কোথাও উল্লেখ নেই যে, কত শতাংশ অর্থ স্থানীয় ও জাতীয় সংগঠনগুলোর কাছে সরাসরি বণ্ঠণ করা হবে। মূলত জাতিসংঘের সংস্থাসমূহ ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো জেআরপির ভিত্তিতে বিভিন্ন দাতা সংস্থার থেকে তহবিল সংগ্রহ করলেও, সেই অর্থ স্থানীয় ও জাতীয় সংগঠনগুলোর কাছে কীভাবে যাচ্ছে, কত পরিমান যাচ্ছে তা নিয়ে কোনো স্বচ্ছ ড্যাশবোর্ড বা পরিকল্পনা নেই।

. স্থানীয়করণ বাস্তবায়নে সম্প্রসারিত সহায়তার অভাবঃ ISCG/RCT জেআরপি প্রস্তুত এবং অংশীদারদের অর্থায়ন প্রতিবেদন সংগ্রহে সহায়তা করলেও দেখা যায় যে অনেক স্থানীয় সংগঠন ও কিছু আন্তর্জাতিক এনজিও খুব সীমিত পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। কিন্তু স্থানীয় সংগঠনগুলোর তহবিল সংগ্রহ সক্ষমতা বাড়াতে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই।

. পরিবেশ পুনরুদ্ধার তহবিলের প্রয়োজনঃ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশপাশে উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় ৩০০ একর কৃষিজমি ক্যাম্পের বর্জ্যের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিপুল মানবিক সহায়তা থাকা সত্ত্বেও এসব জমি পুনরুদ্ধার বা টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর উদ্যোগ খুব দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক কারণ খাদ্য নিরাপত্তা ও ক্ষুধা সূচকে কক্সবাজার দেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ জেলা। জেলার অর্থনীতি বন, কৃষি, ধান চাষ এবং লবণ উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল।

. ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবেঃ উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় প্রায় ৫–১০% নলকূপ শুকিয়ে গেছে অথবা লবণাক্ত পানি দিচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ লিটার ভূগর্ভস্থ পানি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ব্যবহারের জন্য উত্তোলন করা হচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করছে।

সুপারিশসমূহ

সুপারিশ: মানবিক সাড়াদানের পাশাপাশি প্রত্যাবাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াঃ সব ধরনের মানবিক ও ত্রাণ কার্যক্রমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনকে চূড়ান্ত লক্ষ্য কর করতে হবে। এমন কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা উচিত নয় যা রোহিঙ্গাদের মধ্যে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে বসবাসের ধারণা তৈরি করে। রোহিঙ্গা কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিটি সংস্থাকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে এবং বলতে হবে যে, তাদের কার্যক্রম কীভাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করছে।

সুপারিশ: ক্যাম্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা জোরদার করাঃ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। বাংলাদেশ সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে ক্যাম্পের বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে আইনশৃঙ্খলা জোরদার করতে হবে।

সুপারিশ-৩: রোহিঙ্গাদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাঃ বর্তমান জেআরপি মূলত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার উপকারভোগী হিসেবে বিবেচনা করছে, কিন্তু তাদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়টি যথাযথভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে না। মানবিক সহায়তার পাশাপাশি জাতিসংঘ সংস্থা ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোকে রোহিঙ্গাদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে এবং মিয়ানমারে সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিকে জোরদার করতে হবে।

সুপারিশ-৪: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন গঠনঃ বর্তমানে কক্সবাজারে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে এবং গত দুই বছরে আরও প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহায়তা চললেও প্রত্যাবাসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে একটি ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন’ গঠন করা প্রয়োজন। কমিশনটি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার তদারকি, সমন্বয়, সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় জনগণ ও অংশীজনদের সঙ্গে প্রত্যাবাসনের নিয়মিত অগ্রগতি জানানোর দায়িত্ব পালন করবে।

সুপারিশ-৫: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনঃ গত বছর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে এ বছর এখন পর্যন্ত অনুরূপ কোনো উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়নি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা প্রয়োজন, যাতে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বৈশ্বিক সমর্থন জোরদার করা যায়। সম্মেলনে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ নির্ধারণ এবং মিয়ানমারে সংঘটিত নৃশংসতার আন্তর্জাতিক বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

সুপারিশ-৬: স্থানীয় জনগণ ও স্থানীয় এনজিওর জন্য অন্তত ২৫% তহবিল বরাদ্দঃ রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন টিমকে (RCT) স্থানীয় সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে কমপক্ষে ২৫%-এ উন্নীত করার একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম স্থানীয় ও জাতীয়

এনজিওগুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা উচিত, আর আন্তর্জাতিক এনজিও ও জাতিসংঘ সংস্থাগুলো পর্যবেক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং তহবিল সংগ্রহে ভূমিকা পালন করবে। একইসঙ্গে জেআরপি ২০২৬-এ ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও পৃথক পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিন ধরে জীবিকা, প্রাকৃতিক সম্পদ, অবকাঠামো, জনসেবা ও সামাজিক সম্প্রতির ওপর বাড়তি চাপের মুখে রয়েছে। তাদের বাদ দিয়ে কোনো মানবিক পরিকল্পনা ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে না।

সুপারিশ-৭: স্থানীয় এনজিওগুলোর তহবিল সংগ্রহ সক্ষমতা বৃদ্ধিঃ জাতিসংঘ সংস্থা ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর তহবিল সংগ্রহ এবং বৃহৎ পরিসরে অর্থ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা অনেক বেশি। কিন্তু স্থানীয় সংগঠনগুলোর সরাসরি দাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তহবিল সংগ্রহের সুযোগ সীমিত। তাই জেআরপিতে স্থানীয় সংগঠনগুলোর তহবিল সংগ্রহ করার সক্ষমতা উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শুধু বাজেট তৈরি ও জমা দেওয়ার দায়িত্ব নিলেই হবে না; তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরিতে সহায়তা করা প্রয়োজন। এতে স্থানীয়করণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী হবে এবং স্থানীয় সংগঠনগুলো সরাসরি অর্থায়নের সুযোগ পাবে।

সুপারিশ-৮: জেআরপি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সরকারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাঃ জেআরপি প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা এবং আরআরআরসি-এর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের অবদান ও দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও সমন্বয় প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সুপারিশ-৯: জেআরপি বাজেটে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাঃ জেআরপি বাজেটে কার্যক্রম ব্যয়, পরিচালন ব্যয়, জনবল ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় পৃথকভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। একইসঙ্গে স্থানীয় এনজিও, জাতীয় এনজিও, আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর মধ্যে তহবিল বণ্ঠনের অনুপাত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে হবে এবং কোন সংস্থা কীভাবে অর্থ ব্যবহার করবে সে বিষয়েও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকতে হবে।

সুপারিশ-১০: পরিবেশ পুনরুদ্ধার তহবিল ও নাফ নদীর পানি সরবরাহঃ কক্সবাজারের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় জনগণ ও স্থানীয় সরকার একটি “পরিবেশ পুনরুদ্ধার তহবিল” গঠনের দাবি জানাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের পরিবর্তে নাফ নদীর পানি পরিশোধনের মাধ্যমে সরবরাহ করতে হবে। পাশাপাশি বিকল্প পানির উৎস সৃষ্টি এবং পুকুর খননের মাধ্যমে ভূগর্ভে পানি ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে হবে।

Download full report click here